আজ , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

রাউজানে পুকুর নিয়ে বিরোধের পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি

লেখক : সাহেদুর রহমান মোরশেদ | প্রকাশ: ২০২২-০৩-২৫ ০০:৩৯:৪৭

শফিউল আলম, রাউজানবার্তাঃ

চট্টগ্রামের রাউজানে ডা. শ্যামল ভট্টচার্য্য (৬০) নামে এক হোমিও চিকিৎসকের গত ২২ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ীর অদুরে কাসেম সুলতানা হোমিও ফ্রি দাতব্য চিকিৎসালয়ে রহস্যজনক মৃত্যু হয়। হেমিওচিকিৎসক চেম্বারে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচারনা চলালেও তার স্ত্রী ইলা ভট্টচার্য্য তার স্বামী শ্যমল ভট্টচার্যকে মেরে চেম্বারের মধ্যে ফাসিতে ঝুলিয়েদেওয়া হয়েছে বলে দাবী করে বলেন, তার চেম্বারে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে আমি যায়। স্বামীকে চেম্বারের মধ্যে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় তার পা চেম্বারের ফ্লোরের সাথে লাগানো ছিল। তার পায়ের আঙ্গুলে জখমের দাগ রয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করার পর ময়না তদন্ত শেষে গত ২৩ মার্চ বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর বলুয়ার দিঘির পাড়স্থ শ্বসানে শ্যামল ভট্টচার্য্যরে মরদেহ দাহ করা হয়।

ঘটনার পর থেকে শ্যামল ভট্টচায্যের স্ত্রী ইলা ভট্টচার্য্য দাবী করে আসছে তার স্বামীকে হত্যা করে চেম্বারে ফাসিতে ঝুলিয়ে রেখে হত্যকারীরা আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচারানা চালিয়ে আসছে।

ঘটনার পর পুলিশ ইলা ভট্টচার্যের কাছ থেকে একটি লিখিত কাগজে দস্তখত নিয়েছে বলে ইলা ভট্টচার্য্য দাবী করছেন।

রাউজান থানার ওসি আবদুল্ল্যাহ আল হারুন বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচার্য্যরে লাশের ময়না তদন্ত রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা করেছে মর্মে কোন মামলা নিতে পারবনা। ময়ংনা তদন্ত রিপোর্টে হত্যা করা হয়েছে রির্পোট পেলে হত্যা মামলা রেকর্ড করা হবে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত যে হউক না কেন তাকে গ্রেফতার করে আইনগতঃ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকার লোকজন ও শ্যামল ভট্টচার্য্যরে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শ্যামল ভটটচার্য্যরে বসতবাড়ীর সামনে শত বৎসরের পুরাতন পৈতৃক ৬৫ শতক আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। গত চার বৎসর পুর্বে জমির দালাল বেরুলিয়ার মৃত জহুর ড্রাইভারের পুত্র রিটন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের চাচাত ভাই সুকান্ত থেকে পুকুরের অংশ ক্রয় করিয়ে দেয় ডাবুয়ার হাসান খীল এলাকার টিপু নামের এক ব্যক্তিকে। টিপু পুকুরের অংশ ক্রয় করার পর থেকে জমির দালাল বিটন টিপুর ক্রয় করা পুকুরের অংশ দেখাশুনা করতো। সম্প্রতি পুকুরের অনান্য অংশিদারের সাথে কোন পরামর্শ ও তাদের মতামত নানিয়ে রিটন পুকুরটি সেচ পাম্প বসিয়ে পানি ফেলে দিয়ে পুকুরের সব মাছ নিয়ে যায়। পুকুরটি ভরাট করার প্রচেষ্টায় মেতে উঠে।

এঘটনা নিয়ে জমির দালাল রিটনের সাথে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচার্যের একাধিকবার বাক বিতান্ডা হয়। সর্ব শেষে গত ১৮ মার্চ শুক্রবার হোমিওপ্যতিক চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচার্য্যওে সাথে রিটনের বাক বিতান্ডা হয়। ঐ সময়ে রিটন শ্যামল ভট্টচার্য্যকে লাঞ্চিত করে।

এঘটনার চারদিন পর দিন দুপুরে চিকিৎসা চেম্বারে চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচার্য্যরে রহস্য জনক মৃত্যু হয়। রহস্যজনক মৃত্যুর পর এলাকায় সাধারন মানুষের মধ্যে চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচার্য্যকে হত্যা করেছে না আত্মহত্যা করেছে তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক শ্যামল ভট্টচায্য রাউজান পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকার প্রয়াত দেবর্শন ভট্টচায্যের পুত্র। তার এক ছেলে সন্তান মিটুন ভট্টচার্য্য একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মিটুন ভট্টচার্য্য ঢাকায় একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করেন। শ্যাম ভট্টচার্য্যরে এক কন্যা সন্তান চিনে স্কলারসিপ নিয়ে লেখপাড়া করছেন।

হোমিও চিকৎসক শ্যামল ভট্টচার্যের স্ত্রী ইলা ভট্টচায্য স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে । ইলা ভট্টচার্য্য বলেন আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। মযনা তদন্ত রিপোর্টে আমার স্বামীকে হত্যা করার রির্পোট পেলে আমার স্বামীর হত্যাকান্ডের বিচার আমি ও আমার সন্তানেরা পাবে কি? হত্যকান্ডের বিচার হলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা শান্তি পাব।