আজ , মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

সংরক্ষিত বন এলাকার নিধন করা কাঠ গিলে খাচ্ছে রাউজানের করত কলগুলো

লেখক : সাহেদুর রহমান মোরশেদ | প্রকাশ: ২০২২-০৩-২৪ ০০:২৯:৫১

 

শফিউল আলম, রাউজানবার্তাঃ

কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদী দিয়ে প্রতিদিন ব্যাপক হারে চলছে কাঠ পাচার কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা করাত কলে পাচার করা কাঠ স্তুপ করে রেখে সাইজ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে অবাধে।

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট, লাম্বুর হাট, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরী হাট, কচুখাইন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে রয়েছে ২০টির অধিক করাত কল, কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযুক্ত হারধা নদীর তীরে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গনিমিয়ার ঘাট, উরকিরচর ইউনিয়নের মদুনাঘাট এলাকায় রয়েছে আরো দশটি করাত কল।

প্রতিদিন পার্বত্য জেলার রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী, করইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়াল খালী পাহাড়ী এলাকা থেকে বিপুর পরিমান বৃক্ষ নিধন করে কর্ণফুলী নদী দিয়ে বাশের চালার সাথে বেধে ও যান্ত্রিক নৌযানে করে কাঠ পাচার করছে অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা । কর্ণফুলী নদী দিয়ে পাচার করা কাঠের মধ্যে পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত এলাকার বনের বৃক্ষ নিধন করা কাঠ পাচার হয় বেশী।

কর্ণফুলী নদী দিয়ে পাচার করা কাঠ রাউজান উপজেলা কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠা করাত কল ও কর্ণফুলী নদীর সাথে সংযুক্ত হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা করাত কলে নদী দিয়ে এনে স্তুপ করে রাখে। কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা করাত কলে স্তুপ করা কাঠ সাইজ করে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পথে জীপ ও ট্রাক যোগে ও নদী পথে যান্ত্রিক নৌযান ভর্তি করে পাচার করা হয়।

এছাড়া ও প্রতিদিন কর্ণফুলী নদী দিয়ে সংরক্ষিত বন এলাকার নিধন করা বৃক্ষ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে পাচার করছে অবৈধ ভাবে। রাউজান উপজেলার কর্ণফুলী নদী ও হালদা নদীর তীরে গড়ে উঠা করাত কল ছাড়াও রাউজানের হলদিয়া আমির হাট, জানি পাথর, জগ্ননাথ হাট, চিকদাইর হক বাজার, গহিরা ইউনিয়নের দলই নগর, কাল চান্দ চৌধুরী হাট, দক্ষিন সর্তা, রাউজান উপজেলা সদরের সাব রেজিষ্ট্রারের অফিসের পাশে, রাউজান পশু হাসপাতালে পুর্ব পাশে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশন, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ডোমখালী, কাগতিয়া বাজার, রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাইন্যা পুকুর, পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট, পাহাড়তলী ইউনিয়নের পাহাড়তলী চৌমুহনী, কদলপুর ইউনিয়নের সোমবাইজ্যা হাটের উত্তর পাশে, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের রমজান আলী হাট, নাতোয়ান বাগিচা, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকায় রয়েছে শতাধিক করাত কল।

রাউজানের এসব করাত কলে কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী, সর্তার খাল দিয়ে ও সড়ক পথে জীপ ও ট্রাক ভর্তি করে পাচার করা কাঠ এনে স্তুপ করে রাখে। করাত কলে স্তুপ করা কাঠ সাইজ করে নদী পথে ও সড়ক পথে প্রতিদিন পাচার করা হয়। নদী পথে ওসড়ক পথে প্রতিদিন বিপুল পরিমান কাঠ অবৈধভাবে পাচার করা হলে ও সংশ্লিষ্টরা নিরবতা পালন করে আসছে।

রাউজানের করাত কল গুলো গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বন এলাকার নিধন করা কাঠ। বনবিভাগ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে অবৈধ ভাবে কাঠ পাচার ও করাত কলে স্তুপ করে রাখা কাঠ সাইজ করে পাচার করার হিড়িক পড়ছে।

এব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জ অফিসার খসরুল আমিনের কাছে ফোন করে জানতে চাইলে, ইছামতি রেঞ্জ অফিসার খসরুল আমিন বলেন, রাউজানে লাইসেন্স ধারী করত কল রয়েছে ৩১ টি । লাইসেন্স বিহিন অবৈধ করাত কল কয়টি রয়েছে তা আমার জানা নেই। কর্ণফুলী নদী দিয়ে কাঠ পাচারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের আওয়াতাধিন রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ সহ কয়েকটি বিট অফিস, সর্তা খাল দিয়ে কাঠ পাচারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সর্তা ফরেষ্ট বিটের । আমার আওতাধিন এলাকায় লাইসেন্স বিহিন অবৈধ করাত কল রয়েছে ঐ করত কলের বিরুদ্বে অভিযান পরিচালনা করা হবে ।